সড়ক দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করল জেলা প্রশাসক

জুন ২৭ ২০২৬, ২২:০৮

সড়ক দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করল জেলা প্রশাসক

চার বছর আগে ট্রাকচাপায় মা-বাবা ও বোনের মৃত্যু হলেও মায়ের পেট ফেটে বেড়িয়ে এসে অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিল এক নবজাতক শিশু| আলোচিত ওই ঘটনার একমাস পর থেকেই প্রতিমাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে টাকা পাঠিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামের ফাতেমার পরিবারকে শনিবার সরকারি সহায়তা প্রদান করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক|

 

২০২২ সালের ১৬ জুলাই শনিবার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করতে এসেছিল ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম| পৌরশহরের কোর্টভবন এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় একটি পেঁয়াজবাহী ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী রহিমা আক্তার রত্না ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা আক্তারের মৃত্যু হয়| ওই সময় পেট ফেটে বেরিয়ে আসে নবজাতক শিশু| ডান হাত ভেঙে গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় সেই শিশুটি| শিশুটির বোন জান্নাতুল ফেরদৌস তার বোনের নাম ঠিক করেছিল ফাতেমা| সড়কে মায়ের পেট ফেঁটে ভূমিষ্ট হয়ে অলৌকিক বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে| শিশুকে দত্তক নিতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে যোগাযোগ করেছিল অনেকে| পরিবারটি বলছিল তারাই আগলে রাখবে নবজাতক শিশুটিকে| কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশু ফাতেমার ঠাঁই হয় ঢাকার শিশুনিবাসে| সেখানেই বেড়ে উঠছে ফাতেমা| আগামি ১৬ জুলাই চার বছর পূর্ণ হবে তার|

ওইসময়ে রাজনৈতিক কারণে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| বিষয়টি তার নজরে এলে, অসহায় ওই পরিবারের পাশে দাড়ানোর জন্য তিনি লন্ডন থেকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিএনপি পরিবারকে দায়িত্ব দেন| বিএনপি পরিবারের আহবায়ক ও প্রধানমন্ত্রী সহকারী প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের নেতৃত্বে একটি দল ত্রিশালে এসে ফাতেমার পরিবারের খোঁজখবর নেন| এরপর প্রতিমাসেই চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি ও মুরগি ও শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজণীয় সামগ্রী দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়| লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো অনুদানের টাকায় ভ্যাণগাড়ি ভর্তি নিত্যপ্রয়োজণীয় সামগ্রী ফাতেমার পরিবারের কাছে প্রতিমাসে পৌছে দিতেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈমুল করিম লুইন| ফাতেমার জন্মের একমাস পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সহায়তা এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে অব্যাহত রয়েছে|

সাবেক ছাত্রদল নেতা নাঈমুল করিম লুইন জানান, প্রতিমাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো টাকায় নিত্যপ্রয়োজণীয় সামগ্রী বাজার থেকে কিনে ভ্যাণগাড়ি ভরে আমি ফাতেমার দাদা বাবলু ভাইয়ের কাছে পৌছে দেই| গত চার বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া এ দায়িত্ব আমি পালন করে আসছি| দায়িত্ব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে এ ভাবে দায়িত্ব পালন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো আর কাউকে দেখিনি| এমন দায়িত্ববোধ নজীর বিহীন|

শনিবার বিকেলে ফাতেমার বাড়ি রায়মনি গ্রামে যান ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান| তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা হিসেবে তিন বান টিন, খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলুর দোকানের জন্য মালামাল উপহার দেন| এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈমুল করিম লুইনসহ অন্যান্যরা|

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, মানবিক কাজের অংশ হিসেবে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার পরিবারকে| এরমধ্যে ঘর করার জন্য নতুন টিন, ফাতেমার ভাইবোনদের পড়ালেখার জন্য নগদ অর্থ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও দৈনিক আয়ের জন্য তার দাদার দোকানের মালামাল ক্রয় করে দেয়া হয়েছে|

ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিকুল অবস্থাতেও বিদেশে অবস্থান করেও যে দয়া দেখিয়েছেন তা চির স্বরণীয় হয়ে থাকবে| এখনো করছেন তিনি|

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 30