মরা গরুর মাংসের কারবারে কসাইয়ের সঙ্গে কতজন দালাল?

মরা গরুর মাংসের কারবারে কসাইয়ের সঙ্গে কতজন দালাল?

অসুস্থ বা মৃত গরুর সংগ্রহ করা মাংস

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে , বিভিন্ন স্থান থেকে অসুস্থ বা মৃত গরু সংগ্রহ করে একটি চক্র তা জবাই কিংবা মাংস হিসেবে বাজারজাত করছে। এ কারবারে শুধু কসাই নয়, এর পেছনে একাধিক দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী জড়িত থাকতে পারে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দাবি করা হয় , গৌরীপুরের একটি পরিবারের মৃত গরুর মাংস কেন্দুয়ার একটি মাংসের দোকানে আনা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
ভিডিওতে আলোচিত আরাধন কসাই দাবি করেন, রামপুর এলাকার এক দালাল গৌরীপুর থেকে মাংস তার কাছে সরবরাহ করেছে। সেই দালাল কে?

 

প্রশ্ন উঠেছে, অসুস্থ বা মরা গরু কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে? কে বা কারা এসব গরু কসাইদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে? একটি মৃত বা রোগাক্রান্ত গরু কীভাবে জবাইয়ের জন্য বাজারে ঢুকছে? এর সঙ্গে কি শুধু কসাই জড়িত, নাকি রয়েছে একাধিক দালাল ও সরবরাহকারী?

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে বা মারা গেলে সেটি গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র কম দামে এসব গরু সংগ্রহ করে মাংসের বাজারে সরবরাহ করতে পারে।

 

ইতিমধ্যে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাংসের স্বাস্থ্যঝুঁকি বা উৎস সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া যাবে? আর নমুনা সংগ্রহ করা মাংসটি যে নির্দিষ্ট গরুর এ বিষয়ে কতটা নিশ্চিত হওয়া যাবে?

 

ভোক্তাদের নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত তদারকি, জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মাংসের দোকানগুলোর বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অসুস্থ বা মৃত গরুর মাংস বাজারজাতের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন! অসুস্থ বা মরা গরুর মাংস যদি সত্যিই বাজারে আসে, তাহলে এর পেছনে কসাইয়ের সঙ্গে কতজন দালাল বা সরবরাহকারী কাজ করছে? সেই চক্রের হোতা কে, আর এতদিন ধরে তারা কীভাবে নজরদারির বাইরে থাকল, তা খুঁজে বের করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সময়ে দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর।

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 30