কেন্দুয়ায় জালিয়া হাওরের বাঁধ কেটে ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
সেপ্টেম্বর ১৭ ২০২৬, ২১:৪০
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জালিয়া হাওরের বেড়িবাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়ায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি এবং মাছ লুটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পাশ্ববর্তী মদন উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের মামুদ আলীর ছেলে ছদ্দু মিয়া (৫৭) কে প্রধান আসামি করে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আলী আহম্মদ খান। অভিযোগে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৮টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের পূর্ব সীমান্তের জালিয়া হাওরের কালারিয়া এলাকায় ঘটে।
লিখিত অভিযোগে বাদী বলেন, কেন্দুয়া থানার মামুদপুর গ্রামের জালিয়া হাওরের কালারিয়া অংশের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে তাঁর সত্ত্বদখলীয় নিচু জমিতে প্রতি বোরো মৌসুমে ধান চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল ও মাছ রক্ষায় সেখানে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বিবাদীরা ১৫ থেকে ২০টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ওই হাওরে প্রবেশ করে । পরে তারা কোদাল দিয়ে বেড়িবাঁধ ও বরনী নদীর পাড় কেটে দেন। এতে হাওরে জমে থাকা পানি বরনী নদীতে প্রবাহিত হয়। ওই পানির স্রোতে রুই, কাতল, মৃগেল, গাসকার্প, সরপুঁটি, বোয়াল, শোল, শিং, মাগুর ও কৈসহ বিভিন্ন প্রজাতির চাষ করা মাছ নদীতে ভেসে যায়। এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। একই সময় অভিযুক্তরা চায়না জাল ও জিমজাল দিয়ে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদেরকে ধাওয়া করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের প্রাণনাশ ও খুন করে গুমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বাদী।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
