কচুরিপানামুক্ত কাঁচামাটিয়া নদী, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে
জুলাই ১০ ২০২৬, ১৮:৫০
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদী দীর্ঘদিনের কচুরিপানার জঞ্জাল থেকে মুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনে| উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী পরিষ্কার হওয়ায় মশা, বিষাক্ত পোকামাকড় ও সরীসৃপের উপদ্রব কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা|
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কাঁচামাটিয়া নদী একসময় এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল| নদীপথে ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো| নদীর মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন জেলেরা, আর কৃষকরা সেচের কাজে ব্যবহার করতেন নদীর পানি| কিন্তু সময়ের সঙ্গে দখল, দূষণ, অবৈধ স্থাপনা, বর্জ্য ফেলা ও নাব্যতা সংকটে নদীটি প্রায়মৃত হয়ে পড়ে|
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর দুই পাড় দখল, নদীর বুকে চর জেগে ওঠা এবং হাট-বাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়| বিশেষ করে ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে থানা পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গিয়ে মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল| এতে নদীতীরবর্তী দেড় হাজারের বেশি পরিবার দুর্ভোগে পড়ে|
নদী রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করে আসছিল স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নাগরিকরা| এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু| পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অপসারণ কাজ সম্পন্ন হয়|
নদীপাড়ের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক ভুঁইয়া বলেন, “কচুরিপানা সরানোর পর মশা ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেক কমেছে|” বাবুল ভুঁইয়া বলেন, “নদীটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই|”
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান জানান, সংসদ সদস্যের সম্মতিক্রমে উপজেলা পরিষদের এডিপি ফান্ডের অর্থায়নে জন স্বা্থে এই কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে| নদীটি খনন করার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবহিত করা হলে তিনি নদীটি খননের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন|
