ময়মনসিংহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

আগস্ট ১৩ ২০২৬, ২০:০৭

ময়মনসিংহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

ময়মনসিংহ কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিড-ছবি স্বজন

ময়মনসিংহে তীব্র গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং| এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ| এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরো প্রকট| দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা| বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কষ্ট এখন চরমে পৌঁছেছে| দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী|
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে| একবার গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে বিদ্যুতের দেখা মেলে না| এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে| বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা| একটু গরম বেশি হলেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখা দেয়| নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময় চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়| প্রতিবার কোথাও একঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে|
আর গ্রামীণ বা শহরতলীর এলাকাগুলোতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না| বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় নগরীর চড়পাড়া, মাসকান্দা, বাঘমারা, ব্রাহ্মপল্লী, গাঙ্গিনার পাড়, ভাটিকাশর, নওমহল, কেওয়াটখালি, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, পন্ডিত পাড়া, আকুয়া, কলেজ রোড, জামতলা মোড়, সানকি পাড়া, পুলিশ লাইন, কাঠগোলা এলাকাসহ প্রায় সব এলাকাতেই লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে| প্রতিটি এলাকায় দিনের বেলায় তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে|
বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের ময়ময়নসিংহ জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে প্রায় চারশ’র বেশি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে পরীক্ষা-নীরিক্ষার বিভিন্ন মেশিন বন্ধ থাকে| এতে করে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগি এবং ¯^জনদের বিপাকে পড়তে হয়| মুমূর্ষ রোগীদের অপারেশন করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়| তেলের দাম বেশি থাকায় জেনারেটর দিয়ে কাজ চালাতে খরচ অনেক বেশী হচ্ছে|
পাওয়ার গ্রীড সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে গড়ে এক হাজার ২শ মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে গ্রীড থেকে| সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং এর পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে|
ময়মনসিংহ নগরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দুটি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে| এ দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়| আজ সকালে নগরের বাতিলকল এলাকায় অবস্থিত বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউল ইসলাম লোডশেডিং বাড়ার বিষয়টি ¯^ীকার করে বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়| তখন সাধারণত লোডশেডিং বেড়ে যায়| গত শনিবার থেকে ময়মনসিংহ নগরে তাপমাত্রা বেড়েছে| যে কারনে শনিবার রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং হয়|
মশিউল ইসলাম আরও জানান, বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র দক্ষিণের গতকাল বৃহষ্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৪৮ মেগাওয়াট| এ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩৪ মেগাওয়াট| ১৪ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল| যে কারনে ব্যাপক মাত্রায় লোডশেডিং হয়|
ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক জানান, বিদ্যুতের কোন যান্ত্রিক ত্রুটি নাই কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন কম থাকায় এবং চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা হচ্ছে| ময়মনসিংহ শম্ভূগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ২১০ মেগাওয়াটের মধ্যে শূন্য মেগাওয়াট সরবরাহ করছে| জামালপুর ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টে ৩১৫ মেগাওয়াটের মধ্যে দিনে রাতে ৯৫ থেকে ২০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে এবং শ্রীপুর বর্মি পাওয়ার পাওয়ার প্লান্টে ১৬০ মেগাওয়াটের মধ্যে ১৪০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে|
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট| গত সপ্তাহে অতিরিক্ত গরমে পিক সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে| তবে বৃহষ্পতিবারে লোডশেডিং হ্রাস পেয়েছে এবং নিরাপত্তার বিষয়ে তারা সতর্ক অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন|
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবু নাসের বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট| এর বিপরীতে ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে| ফলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে|’
অন্যদিকে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এজিএম মো. মুকুল হোসেন জানান, ‘আমাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি| পিক ও অফপিক মিলিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে|’

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 30