বিষমুক্ত ভেবে ঈশ্বরগঞ্জে এক কৃষক ধরেছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ
জুলাই ১১ ২০২৬, ২১:০৪
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিষমুক্ত ভেবে এক কৃষক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিষধর ওয়ালস ক্রেট (Wall’s Krait) সাপ ধরে চার দিন বস্তাবন্দী করে রেখেছিলেন| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একটি উদ্ধারকারী দল সাপটি উদ্ধার করে নিরাপদে বনে অবমুক্ত করে|
শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাইদগাঁও গ্রাম থেকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনতার ঈশ্বরগঞ্জ এর সহযোগিতায় সাপটি উদ্ধার করে ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ| উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন সংগঠনটির ময়মনসিংহ প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান| পরে সাপটিকে ময়মনসিংহে নিয়ে গিয়ে শনিবার বিকেলেই একটি নির্জন বনে অবমুক্ত করা হয়|
জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কাকনহাটি এলাকার কাঁচামাটিয়া নদীর পাড়ে সাপটির দেখা পান স্থানীয় কয়েকজন| দেখতে অনেকটা দাঁড়াশ সাপের মতো হওয়ায় তারা এটিকে বিষমুক্ত মনে করেন| পরে সাপটিকে তাড়া করে কৃষক হারুন অর রশিদ সাপটিকে ধরে বস্তার ভেতর আটকে রাখে|
কৃষক হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা বুঝতেই পারিনি এটি এত বিষধর সাপ| বিষমুক্ত ভেবেই ধরেছিলাম| পরে জনতার ঈশ্বরগঞ্জের সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারি এটি প্রাণঘাতী বিষধর সাপ| তখন রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হয়| তারা এসে নিরাপদে সাপটি নিয়ে যান|
ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান বলেন, ওয়ালস ক্রেটের বৈজ্ঞানিক নাম Bungarus walli| এটি কালাচ বা শঙ্খিনী পরিবারের সদস্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ| এর বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি আঘাত হানে|
তিনি আরও বলেন, এই সাপ সাধারণত নিশাচর| রাতের বেলায় খাবারের সন্ধানে বের হয় এবং দিনের বেলায় ধানক্ষেত, জলাশয়ের আশপাশ, ঝোপঝাড় কিংবা গর্তে লুকিয়ে থাকে| দেখতে অনেকটা দাঁড়াশ সাপের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই ভুল করেন| এ সাপের কামড়ে শুরুতে তেমন ব্যথা বা ফোলাভাব নাও হতে পারে| কিন্তু দ্রুত বিষক্রিয়া শুরু হয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশি অবশ হয়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে| তিনি জানান, উদ্ধারকৃত সাপটি সুস্থ অবস্থায় ছিল| প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের একটি নির্জন বনে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়|
