হাওরে ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

জুন ০৮ ২০২৬, ২১:০২

প্রতিকৃতি ছবি

মাতব্বরদের ৫০ হাজার টাকার ‘মিমাংসা প্রহসন’ ও জরিমানার হুমকি রুখে দিল পুলিশ!

কেন্দুয়া প্রতিনিধি :

টাকার জোরে কি সব অপরাধই ধামাচাপা দেওয়া যায়? নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ৯ বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের পর এমন নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছিল স্থানীয় সমাজপতিরা। প্রভাবশালীদের হুমকি আর ৫০ হাজার টাকার ‘মিমাংসা প্রহসনে’র মুখে দুদিন অবরুদ্ধ ছিল নির্যাতিতার পরিবার। অবশেষে সব ভয় ভেঙে পুলিশের হস্তক্ষেপে সোমবার সন্ধ্যায় রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত শিশুটিকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
​ধর্ষণের এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে মাসকা ইউনিয়নের একটি গ্রামের হাওরে। অভিযুক্ত ধর্ষক একই ইউনিয়নে পানগাও গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ লম্পট আব্দুর রহিম।

​নির্যাতিত শিশুর মা জানান, গত শনিবার সকালে মেয়েটিকে বাড়ির পাশে হাওরে গরু চড়াতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর মা নিজেই হাওরে যান মেয়েকে দেখতে। কিন্তু চারিদিকে মেয়েকে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে হাওরের মাঝখানে একটি নির্জন গাবগাছের নিচে যান। সেখানে গিয়ে যা দেখেন, তা কোনো মায়ের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। তিনি দেখেন, তার বুক খালি করে অবুঝ মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে লম্পট আব্দুর রহিম। মায়ের গগনবিদারী চিৎকার শুনে ধর্ষক রহিম দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

​এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিক মাঠে নামে এলাকার প্রভাবশালী মাতব্বর আবু তাহের ও আবুবকরসহ একটি চক্র । তারা নির্যাতিত পরিবারটিকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা দেয় এবং মাত্র ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। ​এখানেই শেষ নয়, মাতব্বররা ওই দরিদ্র পরিবারটিকে উল্টো হুমকি দিয়ে বলে,
​এই ঘটনা যদি এলাকার বাইরে কেউ জানে বা পুলিশকে বলা হয়, তবে উল্টো তোদেরই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

​লম্পটদের লালসা আর মাতব্বরদের এমন রক্তচক্ষুর ভয়ে হতবিহ্বল পরিবারটি নিজেদের নিরাপত্তা হারিয়ে নির্যাতিত শিশুটিকে লুকিয়ে তার মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

​টাকা আর হুমকির জোরে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এই অপচেষ্টা শেষ রক্ষা পায়নি। ঘটনাটি লোকমুখে জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। পুলিশের অভয় ও আশ্বাসে সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে মামার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার।

​এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) এঘটনাটি শুনার অনুসন্ধান শুরু করে নিশ্চিত হই ঘটনা সত্য। পরে ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া আশ্বাস দেই। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 17