রাতভর চেষ্টা করেও ষাঁড়ের লড়াই নামে জুয়ার আসর ঠেকানো গেল না

জুন ০২ ২০২৬, ২১:০৯

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া :

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার চেংজেনা ও কেরাদিঘী এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার ভোরে ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজেনা ও কেরাদিঘী এলাকায় রায়জুরা ও সান্দিকোনা গ্রামের কয়েকটি ষাঁড় অংশ নেয় এই লড়াইয়ে। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। এ সময় লড়াইকে কেন্দ্র করে প্রকাশে বাজি ধরা ও অর্থ লেনদেন চলে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এমন আয়োজন হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু জানান, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়ার আসর আয়োজনের খবর পেয়ে তিনি রাতভর পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। এমনকি একটি ষাঁড় এক বাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম
গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ভোরে ফোন এলেও তিনি ঘুমে থাকায় বিষয়টি জানতে পারেননি। সকাল ৯টার দিকে তিনি ষাঁড়ের লড়াইয়ের খবর পান। তার দাবি, বিএনপির কোনো নেতা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, রাতে বাবলু সাহেব ফোন করেছিলেন। রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সকাল ৮টার দিকে লড়াইয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছে কোনো ষাঁড় বা আয়োজককে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ইতিমধ্যে একটি ষাঁড়ের মালিক রাসেল নামে এক জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে লড়াই ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 15