ছয় জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১১ জনের
জুন ০৪ ২০২৬, ২২:৫৭
বজ্রপাতে ছয় জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় ৫ জন, ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় ২ জন, নীলফামারীতে একজন, পঞ্চগড়ে একজন, চুয়াডাঙ্গায় একজন ও বগুড়ায় একজন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বৃষ্টির সময় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় তিন জন, সদর উপজেলায় একজন এবং নাচোল উপজেলায় একজন রয়েছেন। বিকেলে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় নিহতরা হলেন—চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল।
অন্য দুটি ঘটনার মধ্যে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকায় বৃষ্টির সময় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান সুমিয়ারা বেগম নামের এক নারী।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে এক কলেজশিক্ষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও উপজেলায় সিয়াম (২৮) নামে এক যুবক এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মুক্তাগাছায় এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) নামে এক কলেজশিক্ষকের মৃত্যু হয়।
নিহত সিয়াম উপজেলার পাগলা থানার পাঁচভাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে এবং শিক্ষক খালেকুল আজাদ উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের মৃত হাজী ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ সময় সেরিনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়। সন্ধ্যায় উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলম ইসলাম নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে ও আহত গৃহবধূ সেরিনা একই এলাকার বাসিন্দা।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার চাচাতো নাহিদ (২৩) গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিকেলে নাফিজের বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিজ আহমেদ শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাফিজ আহমেদ শান্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে। আহত নাহিদ একই গ্রামের লিটনের ছেলে। সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান।
বগুড়া
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি হোসেন ওই গ্রামের আফাল উদ্দিনের ছেলে।
