মুক্তাগাছা বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হতে বিলম্ব, ভোগান্তী
জুন ০১ ২০২৬, ১৯:৫৬
জগলুল পাশা রুশো :
ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু মুক্তাগাছা বাইপাস সড়ক নির্মাণের মাত্র ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেষ করতে পারেনি। যার জন্য পুরো মহাসড়কের সুফল আটকে আছে। মূলত ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইল, জামালপুর ও উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন মুক্তাগাছা পৌর শহরের যানজট এড়িয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারবে এই উদ্দেশ্যে মুক্তাগাছা বাইপাস সড়কের প্রয়োজনীয়তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইপাস সড়কের কিছু অংশ পিচ ঢালাই, কোথাও বালু ও ইটের খোয়া, আবার কোথাও বিস্তৃর্ণ ফসলি মাঠ। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মুক্তাগাছা বাইপাস অংশের এমনই দশা দেখা গেছে। মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের সত্রাশিয়া এলাকা থেকে বাঁশাটি ইউনিয়নের ভাবকীর মোড় পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময় পর আরও দুই দফা সময় বাড়িয়েও ভাবকীর মোড় থেকে লাঙ্গুলিয়া হয়ে চরবগুড়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হয়নি।
এছাড়া একই প্রকল্পের আওতাধীন মধুপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় সড়কের ভাবকীর মোড় থেকে ল্যাংড়ার বাজার অংশে এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজও অসম্পূর্ণ। এতে মহাসড়কটিতে ভোগান্তি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। মুক্তাগাছা পৌর শহরেও যানজটের ভোগান্তি কমছে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মহানগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ১ জুলাই। ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কটির ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যায় ধরা হয় প্রায় ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৪ সালের ৩০ জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম দফায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। নির্মাণাধীন মুক্তাগাছা বাইপাস সড়কের ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ না হওয়ায় পুরো সড়কটির সুফল পাচ্ছে না মানুষ। জ্বালানি, বিটুমিনসহ অন্যান্য মালামালের মূল্য বৃদ্ধি ও সংকট দেখিয়ে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আরও এক দফা সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার অরুণ কুমার দেবনাথ বলেন, মালামালের দাম অতিরিক্ত বাড়ার কারণে এসব সংগ্রহে আমাদের কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। অতিবর্ষণের জন্য আমাদের কাজও একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে আশা করছি দ্রুত সময়ের বাইপাসের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
