বিএনপি কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেফতার-৪ : জামায়াত নেতার বাড়িসহ ১২ ঘর ভাংচুর

জুন ০৩ ২০২৬, ২০:২০

ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে বিএনপি কর্মী নিহতের ঘটনায় জামায়াত নেতার বাড়িসহ অন্তত ১২ বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যাপাড়া গ্রামে এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

সুত্র জানায়, রানার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে আনার পর স্থানীয় জনতা বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠে। পরে নিহতের স্বজনরা মাইকে হামলা না করার অনুরোধ করে। তবে, স্থানীয় জনতা কোন বাধা না মেনে হামলা চালায়। হামলায় জামায়াত নেতার বাড়িসহ অন্তত ১২ ঘর ভাংচুর করে। এ সময় একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ ঘটনস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলা করে বিএনপি কর্মী রানাসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। 

হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জর হোসেন বাদী হয়ে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মফিদুল ইসলাম মাস্টারসহ ১০ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ১২/১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামী মফিদুল ইসলাম মাস্টার ময়মনসিংহ মহানগর জায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতার ছেলেসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), আলী হোসেনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪০), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ (২৩), চান মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪)। তারা প্রত্যেকেই নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে আটক ৪ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় অটোরিকশা চালক ছিল। সে বিএনপির কর্মী ছিল। আহতরা হলেন, আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০),দিনি মিয়া (৩৫)। নিহত রানার স্বজন মাহাবুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছি ও ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। এরপর থেকে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের সাথে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল।

গত সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে আমাদের বাড়ির সামনে দোকানে তরল পানিও কিনতে কিনতে আসে। এসময় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে তরল পানিও খাচ্ছে বলে ভিক্টিমের পক্ষের লোকজন হেয় করে কথা বলে। এতে মফিদুল মাস্টারের বাড়ির লোকজন ভোটের জেদ মিটাতে মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। পরে মফিদুল মাস্টার নিজে আমাদের বাড়িতে এসে বিষয়টি মিমাংসা করে চলে যায়। পরে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মফিদুল মাস্টার অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন লোকজন নিয়ে এসে হামলা করে। হামলার সময় মফিদুল মাস্টারের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করে। হামলায় আরও ৫ জন আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহত রানার ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বিনা কারণে মফিদুল মাস্টারের ছেলো ছুরি দিঢে বুকে আঘাত করে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এবিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে ঘটেনি। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, নিহত রানা বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। সে কৃষক দল তথা বিএনপির সক্রিয় কর্মী। ইতিমধ্যে চিহ্নিত গুপ্ত রাজনৈতিক দলের সদস্যরা আমাদের এ নিবেদিত কর্মীকে খুন করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি। গুপ্ত রাজনৈতিক দলটিকে আমাদের নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর গ্রেপ্তার ৪ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 15