পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত কলমাকান্দা ভেঙেছে সড়ক ও বিদ্যালয়, বেড়েছে জনদুর্ভোগ
জুলাই ২৩ ২০২৬, ২০:২৫
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও মৎস্য খাত। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ সাময়িকভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েন। পানি নেমে গেলেও ভাঙাচোরা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
উপজেলার খারনৈ, লেংগুরা ও রংছাতি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও গত রোববার রাতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী, লক্ষ্মীপুর, শ্রীপুর, বাগেরপাড়া, বিশ্বনাথপুর ও বাউসাম, রংছাতি ইউনিয়নের চৈতা, নল্লাপাড়া ও ডাইয়ারকান্দা এবং লেংগুরা ইউনিয়নের বালুচড়া, গৌরীপুর ও রাজনগর গ্রামের বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলে এলজিইডির আওতাধীন প্রায় ৫ কিলোমিটার পাকা ও ৭ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এসব সড়কের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ২০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা ও ৬ হেক্টর সবজিখেত।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায়নি। অন্তত ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোতে বিদ্যালয়ের একটি অংশ ভেঙে গেছে। বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের পানিতে অনেক পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে গেছে। এতে স্থানীয় মাছচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকদের আমন ধানের বীজতলা ও সবজিখেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও দুর্গাপুর উপজেলার কয়েকটি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ বলেন, হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। এলজিইডির আওতাধীন ৫ কিলোমিটার পাকা ও ৭ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে সড়ক খাতে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
