স্বামী-দুই সন্তান হারিয়ে অসহায় জাহেরা বেগম, খাবারও জোটে না নিয়মিত

জুন ১০ ২০২৬, ২১:২০

স্বামী-দুই সন্তান হারিয়ে অসহায় জাহেরা বেগম, খাবারও জোটে না নিয়মিত
মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা :
নেত্রকোণা পৌরশহরের ১ নং ওয়ার্ডে সাতপাই রেল কলনীর একটি ছোট্ট জীর্ণ ঘরে পড়ে আছে ৯০ বছরের বৃদ্ধা জাহেরা বেগম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরটা নড়তে চায় না। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী। কিন্তু তার চেয়েও ভারী হয়ে নেমেছে জীবনের কঠিন বাস্তবতা। অনাহার, অসহায়ত্ব আর নিঃসঙ্গতা।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যার চারপাশে থাকার কথা ছিল সন্তান-স্বজনের ভালোবাসা, সেখানে এখন শূন্যতা। স্বামী দেওয়ান আলী ছিলেন খাদ্যগুদামের শ্রমিক। প্রায় দুই আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরপর একে একে বড় ছেলে তাজউদ্দীন ক্যান্সারে এবং ছোট ছেলে ময়না মিয়া হৃদরোগে মারা যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি মৃত্যু যেন ভেঙে দিয়েছে জাহেরার পুরো পৃথিবীটাই।
আজ সেই পৃথিবীতে জাহেরা বেগম শুধু বেঁচে আছেন, কিন্তু জীবনটা বেঁচে থাকা নয়, যেন টিকে থাকার এক নীরব যুদ্ধ।  অনেক দিন এমনও যায় যখন ঘরে খাবার থাকে না। প্রতিবেশীরা কিছু দিলে তবেই জোটে একবেলার খাবার । না হলে অনাহারে কেটে যায় দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঠিক মতো কথা বলতে পারেন না, শুধু নিঃশব্দ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। যেন বোঝাতে চান, আর কত কষ্ট বাকি আছে! বর্তমানে তার দেখাশোনা করছেন একমাত্র ছেলে আলমগীর হোসেন। কিন্তু পরিবারের আয়-রোজগার বলতে কিছুই নেই। প্রতিদিন কাজে গেলে মায়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, আবার ঘরে থাকলেও সংসার চলে না এ এক দুঃসহ দোলাচল।
আলমগীর হোসেন বলেন, মাকে রেখে কাজে যেতে পারি না। আবার না গেলে সংসার চলে না। আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি।
স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম জানান, জাহেরা বেগমের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এক ছেলে আছে আজ সেও মাকে নিয়ে অসহায়। মার এই অবস্থা রেখে কাজে যেতে পারে না। আর কাজে না গেলে পেটে ভাত নেই। দিন কাটে অনাহারে। জীবনের শেষ বয়সে এসে তিনি যেন ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একা হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তশালী সমাজসেবক ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল বাকিউল বারী জানান, বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

1 2 3 … 33