ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে মোবাইল কোর্টে জব্দকৃত বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাই
জুলাই ২৯ ২০২৬, ১৯:৩৫
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে জব্দ করা দুইটি বালুভর্তি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে| মঙ্গলবার ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের লাটিয়ামারি ঘাট ও ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝপথে এ ঘটনা ঘটে|
জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার চর এবং রাজিবপুর ইউনিয়নের চর রামমোহন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়| অভিযানের সময় বালুভর্তি দুইটি ট্রলার জব্দ করা হয়| প্রথমে দুইজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়| এরপর জব্দকৃত ট্রলার দুটি নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পথে বালু উত্তোলনকারীদের একটি সংঘবদ্ধ দল ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে|
রাজিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াদুদ জামান মানিক বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে নিরাপত্তার শর্তে জব্দকৃত ট্রলারগুলো তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল| কিন্তু নির্ধারিত স্থানে নেওয়ার আগেই এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য, কনস্টেবল বিমল চন্দ্র পাল এবং গ্রাম পুলিশ উজ্জ্বল ও ফজলুর উপস্থিতিতে ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়| তিনি আরও জানান, ট্রলারগুলো তার পাশাপাশি রাজিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন এবং উচাখিলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাদীউল বাশার সুমনের জিম্মায় ছিল|
রাজিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন বলেন, অভিযানের সময় ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন| জব্দকৃত একটি ট্রলার এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্যের তত্ত্বাবধানে লাটিয়ামারি ঘাটের দিকে এবং অন্যটি কনস্টেবল বিমল চন্দ্র পালের সঙ্গে তারা নিয়ে যাচ্ছিলেন| এ সময় মরিচার চর এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঝনদীতে হামলা চালিয়ে একটি ট্রলার ছিনিয়ে নেয়| পরে লাটিয়ামারি ঘাটে রাখা অপর ট্রলারটিও নিয়ে যায়| ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার সময় এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন বলেও দাবি করেন তিনি| তার ভাষ্য অনুযায়ী, এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য তখন বলেন, একা আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়| আপনাদের পক্ষেও সম্ভব নয়| বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করা হবে|
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ মোশাররফ জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে থানা পুলিশের একটি দলও অংশ নিয়েছিল| জব্দ করা দুইটি ট্রলার স্থানীয়ভাবে ওয়াদুদ নামে একজন বিএনপি নেতার জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল| পরে ট্রলারের মালিকপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে সেখান থেকে ট্রলার দুটি নিয়ে যায়| তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি| অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান|
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি| ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি|

