ময়মনসিংহে ৮ মাস ধরে নেই সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্যখাতে নানান অস্থিরতা
মে ১৬ ২০২৬, ১৩:৪৬
স্টাফ রিপোর্টার :
আট মাস ধরে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জনের পদটি শূন্য রয়েছে| এতে ময়মনসিংহ জেলার স্বাস্থ্যখাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মচারিরা| গত বছরের অক্টোবরে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খানকে বদলি করা হলে এরপর থেকে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন|
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের কয়েকজন কর্মচারি ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কর্মচারিরা জানান, ডা. ফয়সাল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর থেকে ঢালাও বদলি শুরু করেন| কর্মীদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ না থাকলেও হয়রানিমযুলক ভাবে এ আট মাসে অন্তত ৩২ জন কর্মচারিকে বদলি করেছেন| বদলি ছাড়াও এ আট মাসে অন্তত ৫ জন কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত করা হয়েছে| তবে তদন্তে কোন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমান পায়নি তদন্ত কমিটি|
অভিযোগ রয়েছে, ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধাচারণ করা কর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে দিয়ে তদন্ত করান| এ নিয়ে ইমরানের উপর অন্য অনেক কর্মচারির ক্ষোভ রয়েছে| সিভিল সার্জনের পিএ মো. সুলতান উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে ইমরানের সাজানো দুটি অভিযোগে তদন্ত হয়েছে| একটিতে আমি নির্দোষ প্রমানিত হয়েছি| অপরটির প্রতিবেদন এখনো জানা যায়নি|
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের নৈকট্য পাওয়ার প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সিভিল সার্জন অফিসের কর্মীদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে| এ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন বিতর্কিত ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান| এতে অন্য অনেক কর্মচারি ক্ষুব্ধ| তাদের অভিযোগ দুর্নীতির দায়ে এর আগে শাস্তিমূলক বদলি ও প্রতারণা মামলায় কারা ভোগকারী ইমরান সিভিল সার্জনকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আবার ময়মনসিংহে যোগদান করেন| এমন অভিযোগে সম্প্রতি ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার চোখে পরে| তবে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও ইমরান ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন|
সিভিল সার্জনের অফিসের একাধিক কর্মচারি জানান, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বিতর্কিত ক্যাশিয়ার ইমরানকে সব কাজে প্রাধান্য দিচ্ছেন| ইমরান এর আগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে দুর্নীতির অভিযোগে ময়মনসিংহ থেকে মাগুরা জেলায় বদলি হন| বদলির পর আবারও ময়মনসিংহে ফেরার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিলে র্যাবের হাতে আটক হয়ে এক মাস কারাগারে ছিলেন| ২০২৫ সালের আগস্টে ইমরান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসে নিজের বদলির আদেশ করান| তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ পেয়ে তৎকালীন সিভিল সার্জন ছাইফুল ইসলাম খান ইমরানকে যোগদান করতে দেননি মামলার কারনে| এক মাস পরে ছাইফুল ইসলামকে ময়মনসিংহ থেকে বদলি করা হয়| ধারণা করা হচ্ছে কতিপয় দুর্নীতিবাজের স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় এই বদলি পেছনে বড় ধরনের কোন হাত ছিল|
এরপর ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পান ডেপুটি সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ| ফয়সাল আহমেদ দায়িত্ব পাওয়ার দিনই ইমরানকে যোগদান করানো হয়| কর্মচারিদের অভিযোগ, সম্প্রতি ইমরান একটি মারামারি ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হয়েছেন| আসামি হওয়ার পর গত ২৮ এপ্রিল থেকে আজ ১২ মে পর্যন্ত ইমরান কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত|
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম ইমরানের নামে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার বিষয়ে ইমরানের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ হিসাবে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে|
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, আট মাস ধরে সিভিল সার্জন না থাকার কারনে কর্মচারিরা এমন কাদা ছোঁড়াছোড়ি লিপ্ত হয়েছেন| মূলত ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের নৈকট্য পেয়ে অবৈধ ক্ষমতা চর্চার জন্য কর্মচারিরা ব্যস্ত| সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কাদা ছোঁড়াছোঁড়ির ঘটনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভাবমূতি নষ্ট হচ্ছে| দ্রুত সিভিল সার্জন নিয়োগ দেওয়া এবং কাঁদা ছোঁড়াছোড়ি করা কর্মচারিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান তিনি|
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ বলেন, উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ আমাকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছে| এটা আমার ব্যক্তিগত কোন বিষয় না| উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ চাইলে আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবো|
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ডা, প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ময়মনসিংহের সিভিল সার্জনের পদটি অনেক দিন ধরেই শূন্য আছে| শূন্য পদে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে আমি উধ্বর্তন কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি|
