রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত হন ময়মনসিংহের রহিম
মে ১২ ২০২৬, ১৭:০৮
স্টাফ রিপোর্টার :
সিঙ্গাপুর ৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে পরিবারের অধিক সুখের আশায় ১৮ মাস আগে পাড়ি জমান রাশিয়ায়। সেখানে তিনি একটি কোম্পানীতে কাজ করতেন। এক দালালের খপ্পরের পড়ে রাশিয়ার নাগরিক ও এককালাীন ৪০ লাখ টাকার লোভে পড়ে ১ মে যোগ দেন রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে। যোগদানের ১ দিন পর ২ মে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হন আব্দুর রহিম। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামা পাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মোঃ আজিজুল হক।
গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় রহিম, রিয়াদ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন।
শুক্রবার রাতে রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানান। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন নিজেও ওই ক্যাম্পে ছিলেন এবং একই ড্রোন হামলায় একটি পা হারিয়ে বর্তমানে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরিবারকে জানান লিমন।
নিহত রহিমের মামা শামীম হোসেন মিয়া জানান, আমরা রহিমের বন্ধ আহত লিমন দত্তের ফেসবুক মেশেঞ্জারে রহিম নিহতের বিষয়টি জানতে পারি। তিনি বলেন, তিন ভাইয়ের মধ্যে রহিম ছিল সকলের বড়। ৭ বছর ছিল সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এক বছর বাড়িতে ছিল রহিম। ১৮ মাস আগে তিনি রাশিয়ায় যান একটি কোম্পানীতে কাজ করার জন্য। এক দালালের খপ্পরে পড়ে ৪০ লাখ ও রাশিয়ান নাগরিকের লোভে পড়ে সৈনিক হিসাবে যোগদেন রহিম।
কথা ছিল বিদেশ থেকে ফিরে ভাঙ্গা টিনসেটের বাড়ির জায়গায় পাকা করে বাড়িঘর নির্মাণ করে বিয়ে করবেন। কিন্ত তার ফেরা আর হল না। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই, সরকার যেন নিহত রহিমের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নিহত রহিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, টিনের ভাঙ্গা ঘরে নিহত ছেলের শোকে রহিমের মা রহিছা খাতুন বিলাপ করছেন। তার বিলাপে বাতাস বাড়ি হয়ে গেছে। ৮/১০ জন মহিলা জড়ো হয়েছেন ঘরে সকলের চোখেই জল। কেউ শান্তনা দিচ্ছেন কেউ আবার বিলাপ করছেন।
বাহিরে শোকার্ত মানুষের ভীড় ঠেলে দুপুরের দিকে বাড়িতে প্রবেশ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন। সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ, পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রওশন জাহান ওসি রাশেদুল ইসলাম। তারা নিহতের পরিবারকে শান্তনা দেন। লাশ দ্রুত আনার বিষয়ে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
নিহত রহিমের বাবা আজিজুল ইসলাম জানান, তার তিন ছেলের মধ্যে রহিম ছিল সকলের বড়। ছোট দুই ভাইয়ের লেখাপড়াসহ সংসারের সকল দায় দায়িত্ব পালন করতেন। ঋণ করেও জমি বিক্রি করে বিদেশ গিয়ে ছিলেন রহিম। এখন আমার পরিবারের কি হবে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
রহিমের বাবা দুইবার স্ট্রোক করেছিল বলে জানান ছোট ছেলে হাফেজ আঃ রহমান। তিনি বলেন, আমাদের ভাঙ্গা বাড়ি ঘর। ঋণের বোঝা এখন আমাদের কাঁদে। এখন তো আমাদের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা চাই আমাদের ভাইয়ের লাশটা অন্তত দেশে আসুক। তার মুখটা যেন দেখতে পাই।
