Dainik Swajan

ফিটনেসবিহীন অটোরিক্সার জন্যই ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনা ময়মনসিংহের মহাসড়কে 

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ণ
জগলুল পাশা রুশো, স্টাফ রিপোর্টার :
ফিটনেসবিহীন অটোরিক্সার জন্যই ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনা ময়মনসিংহের মহাসড়কে 
জামালপুর সদরের দড়ি হামিদপুর গ্রনমে স্বজনদের সাথে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মোফাজ্জল হোসেন (৫৪)। তিনি গাজিপুরের একটি ইটভাটায় চাকরী করতেন। কিন্তু তিনি সমস্ত পথ পারি দিয়ে কাছাকাছি এসেও গন্তব্যে ফিরতে পারেননি। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে না ফেরার দেশে পারি জমান তিনি। তার সাথে তার পরিবারের আরও ৩ সদস্য তারাও প্রাণ হারান একই দুর্ঘটনায়।
শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস এলাকায় বাস ও সিএনজি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোফাজ্জলসহ মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়। চালকসহ তারা সবাই সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রী ছিলেন। চলতি বছরে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এটিই সবচে বেশী প্রাণহানির ঘটনা।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী বলেন, মহাসড়কে এধরনের অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে পুরো রাস্তাই এখন এসকল নিষিদ্ধ ও ঝুকিপূর্ণ যানবাহনের দখলে যার চালকদের কোন দক্ষতা নেই। কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।
বিআরটিএ কার্যালয়ের তথ্যমতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে ৩৭৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৭০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২৬৮ জন। তার আগের বছরে ১৫০ টি দুর্ঘটনায় ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিল ১৪২ জন। আহতদের মধ্যে অনেকে এখনো নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এই দুর্ঘটনাগুলোর বেশীরভাগের জন্যই দায়ী মহাসড়কে অটোরিক্সা চলাচল।
দুর্ঘটনার কারন সম্পর্কে বিআরটিএ ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, এই অটোরিক্সাগুলোর লাইসেন্স এক বছরের জন্য দেয়া হয় কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন জটিলতা ও সীমাবদ্ধতায় সেগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করা সম্ভব হয়না। এছাড়া একটি অটোরিক্সাতে তিন জন যাত্রী বহনের নিয়ম থাকলেও চালকরা আইন অমান্য করে ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী বহন করে।
জেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, আঞ্চলিক সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে বাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইঞ্জিনচালিত ভ্যানসহ অবৈধ যানবাহন। এসব যানবাহন সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
জেলায় মাত্র সাড়ে চার হাজার অটোরিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা হলেও বাস্তবে এর কয়েকগুণ বেশী যান চলছে মহাসড়কগুলোতে। যেগুলো চলছে সেগুলোর ৮০ শতাংশ ফিটনেসবিহীন। তবে অচিরেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে এবং চালক ও অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান বিআরটিএ কর্মকর্তা।
পাটগুদাম ব্রীজ মোড়, টাউন হল এবং বাইপাস মোড়ের সিএনজি স্ট্যান্ডে বেশ কয়েকজন অটোরিক্সা চালকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দিন দিন অটোরিক্সার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চালকদের মাঝে ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে হয় তাই তারা মহাসড়কে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে করে অনেক সময় বেপরোয়া গতিতে চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আর চালক কিংবা গাড়ীর লাইসেন্সের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা সবাইকে মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমে “ম্যানেজ” করে গাড়ী চালান বলে জানিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্পর্কে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল আলম বলেন, মহাসড়কগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে একটানা অভিযান চালানো গেলে চালক ও মালিকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পেতো। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাইনবোর্ড ও রোড সাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ স্থান ও বাকগুলোতে বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা স্থাপন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অবৈধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করতে আমাদের চেষ্টা চলছে। আইন না মেনে চলাচলের কারণে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।  মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ অবৈধ যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করতে আমাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই।’

মুক্তিযোদ্দা স্মরণী সড়ক, ৩৬ ছোটবাজার, ময়মনসিংহ। বার্তা ও বাণিজ্য যোগাযোগ - ০১৭১০৫১৭৩১৬  © দৈনিক স্বজন