দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ষড়যন্ত্র এবং প্রতিহিংসামূলক মামলা হতে অব্যাহতি পেতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর হস্তক্ষেপ চান জুলাই শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের সহোদর বিরিশিরি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.খাইরুল ইসলাম ও ভুক্তভোগী মা খোদেজা খাতুন।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের উত্তর গুজিরকোনা গ্রামের মৃত ওমর আলী মন্ডলের পুত্র মো. রহম আলী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত (২ জুন)সন্ধ্যায় দুর্গাপুর থানা পুলিশ খাইরুল ইসলামকে আটক করে। মামলা রুজুপূর্বক (৩ জুন) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্গাপুর চৌকির বিজ্ঞ আদালতের বিচারক নুরুল আমিন ভূইয়া খায়রুল ইসলামের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ঘটনার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের বড় ভাই বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলামকে নিয়ে মানববন্ধনে যে সকল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূক। শহীদ পরিবারের নাম নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ আত্মসাৎ,চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখলের মত অনেক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে এগুলোর অধিকন্তু তদন্ত চান স্থানীয় সচেতন মহল।
বন্ধকি জমি জোর দখলের অভিযোগে স্থানীয় কতক ব্যাক্তিগণ জানান, জমি বন্ধকি ব্যক্তির দখলে আছে এবং তারা নিয়মিত চাষাবাদ ভোগ করছেন। আর জমি সংক্রান্ত এসব লেনদেন দীর্ঘদিন আগে থেকেই চলমান। অনেকেই ৫ আগস্টের পরের ঘটনা বানিয়ে বিশেষ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন। সেটি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনার বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয়রা আরো জানান, হাজী সেকান্দর আলীর পরিবার একটি স্বনামধন্য বিএনপি পরিবার। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গ্রাম্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন শালিশের মাধ্যমে তাদের অনেক জায়গা জমি হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জুলাই বিপ্লবে হাজী সেকান্দার আলী ছোট ছেলে শহীদ হন সাইফুল ইসলাম সেকুল। ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে আসামি করে মামলা করার পর থেকে স্থানীয় একটি মহল নানান ভাবে হয়রানি ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এমনকি মামলাটি তুলে নিতে বেশ কিছু ব্যক্তি চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের মা খুদেজা খাতুন জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল এবং কিছু ষড়যন্ত্রকারি জুলাই বিপ্লব ও আমার পরিবারের সম্মানকে হেয় প্রতিপন্ন করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছে। সমাজে আমাদের পরিবার ও জুলাইকে অবমূল্যায়ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়। ঘটনার সাথে জড়িত প্রায় সকলেই ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে । আমি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে স্থানীয় প্রশাসন ও আমাদের এমপি মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক কাজের মূল চক্রান্তকারিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানাই।