ময়মনসিংহের নান্দাইল জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুর রউফ ও মো. শওকত আলীর মধ্যে সংঘর্ষ,দোকানপাট ভাংচুর,লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) ও র্যাব-১০ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এদিকে উপ্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত দুপুর ১২ টার দিকে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
জানা গেছে- উপজেলার খারুয়া গ্রামের আব্দুল রউফের সাথে নরেন্দ্রপুর গ্রামে মো.শওকত আলীর সঙ্গে ৩০ বছর ধরে ২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। গত বুধবার সকালে শওকত আলী বিরোধ সম্পত্তির মধ্যে ঘর নির্মাণ করতে যান। পরে আব্দুল রউফ নির্মাণ করা ঘর ভেঙ্গে দেন। এতে করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে আব্দুর রউফ থানায় অভিযোগ দেন। বুধবার রাতেই পুলিশ খারুয়া বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্তণ করে রাতভর পুলিশ মোতায়েন থাকে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে আব্দুর রউফের পক্ষে স্থানীয় আবুল কাশেম বিডিআর,জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে মো. শওকত আলীর ভাই লিয়াকত আলীর দোকানে হামলা করে ভাংচুর করে। খবর পেয়ে শওকত আলী,লিয়াত আলী ও রাজু আহমেদ ওয়াজেদ সহ তাদের
পক্ষে লোকজন খারুয়া বাজারে এসে জড়ো হলে দু’পক্ষে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে বাঁশের লাঠি,দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে
আব্দুল রউফের মুদি দোকানে ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
আব্দুর রউফের পুত্র মাহফুজুর রহমান বলেন- আমাদের নিজস্ব জায়গায় ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিল শওকত আলী। তারা আমাদের দোকানপাটে ভাংচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামার লুট করে নিয়ে গেছে।
জানতে চাইলে শওকত আলী বলেন- জায়গাটি আমার ক্রয় করা সম্পত্তি। আমার বৈধ জায়গায় আমি ঘর নির্মাণ করেছিলাম। আব্দুর রউফ পেশী শক্তি দিয়ে ঘর ভেঙ্গে দিছে। তাছাড়াও আমার ভাইয়ের দোকানে ভাংচুর করেছে আবুল কাশেম বিডিআর,জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৮ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানান- দু’পক্ষের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর ১২ টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।