Dainik Swajan

রাজধানীর আদ্-দ্বীনহাসপাতালে এসির ‘গ্যাস লিকেজে’ ৬ শিশুর মৃত্য

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর আদ্-দ্বীনহাসপাতালে এসির ‘গ্যাস লিকেজে’ ৬ শিশুর মৃত্য

স্বজন ডেস্ক : রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ‘গ্যাস লিকেজে’ এক ওয়ার্ডেই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে এমন ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। সেখান থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থার অবনতি হয় এবং একপর্যায়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিল। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। তারা সবাই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল।

এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এক শিশুর দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল।

তিনি জানান, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এবং ওষুধ কেনার জন্য কয়েক হাজার টাকা খরচও করানো হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর গিয়ে জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না। বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

সন্তান হারানো আরেক মা বলেন, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল। তারা কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাইরে নেওয়া হয়। পরে এনআইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।

এই মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন শিশু ছিল। প্রথমে দুটি শিশু অসুস্থ হলে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে আবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সকাল ৬টার দিকে আবারও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছয় নবজাতক শিশুসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে অবস্থান করছিলেন। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এক নবজাতকের মা এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। পরে নার্স প্রায় এক ঘণ্টার জন্য এসি বন্ধ রাখেন। এরপর গরম লাগায় আবার এসি চালু করা হলে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।

 

মুক্তিযোদ্দা স্মরণী সড়ক, ৩৬ ছোটবাজার, ময়মনসিংহ। বার্তা ও বাণিজ্য যোগাযোগ - ০১৭১০৫১৭৩১৬  © দৈনিক স্বজন